
নিজস্ব প্রতিনিধি
কয়রায় বাঁধভাঙা দুর্যোগে হারিয়েছিলেন ঘর-সংসারের নিশ্চয়তা, এখন শাহপুরে শ্রমই তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন।
জি,এম,ফিরোজ, ডুমুরিয়া। জীবনের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই, তবু থেমে নেই পথচলা। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন কাজের সন্ধানে খুলনা শহরে ছুটে যান ৫৭ বছর বয়সী মো. মোস্তফা মোল্লা। দিন শেষে ৪৮০ টাকা মজুরিই তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। ঘূর্ণিঝড় আয়লার তাণ্ডব ও কয়রার জলাবদ্ধতার স্মৃতি পেছনে ফেলে তিনি এখন ডুমুরিয়ার শাহপুরে নতুন করে জীবন গড়েছেন।মোস্তফার বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার খড়ি লাল গ্রামে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আয়লার সময় কয়রা তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই দুর্যোগের পর তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার ২ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়নের শাহপুর পাকার মাথায় এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে পাঁচ শতক জমি কিনে গড়ে তোলেন নতুন ঠিকানা।স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। প্রতিদিন কাজের সন্ধানে খুলনা শহরের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় তাঁকে। রোদ কিংবা বৃষ্টি—কোনো কিছুই থামাতে পারে না তাঁর জীবনসংগ্রাম।মোস্তফা বলেন, “এখানে আমি খুব ভালো আছি। কয়রায় প্রতিবছর এক-দুবার বাঁধ ভেঙে বাড়িঘর তলিয়ে যেত। খুব কষ্টে দিন কাটাতে হতো। এখানে প্রতিদিন কাজ করতে পারি, পরিবারের সবাই মিলে সময়মতো দুমুঠো ভাত খেতে পারি—এটাই আলহামদুলিল্লাহ।”একসময় দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা মোস্তফার কাছে এখন নিয়মিত কাজ পাওয়াই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। সামান্য মজুরির আয়েই পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিয়ে তিনি খুঁজে পেয়েছেন নতুন জীবনের ভরসা।
